মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা হামলার শঙ্কায় মার্কিন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়া
ইরানের হামলা শঙ্কায় মার্কিন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়া

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়া

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার মুখে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ক ও সৌদি আরব থেকে আরও বেশ কিছু সংখ্যক কূটনীতিক ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জারি করা এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জরুরি নির্দেশনা জারি

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ তুরস্কের আদানায় অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটের অপরিহার্য নয় এমন কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর একদিন আগেই গত রোববার (৮ মার্চ) সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের কর্মীদের জন্যও একই ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতের জেরে ইরানের দিক থেকে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি আসায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেননি।

মার্কিন নাগরিকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই পররাষ্ট্র দপ্তরের এই পদক্ষেপকে অপরিকল্পিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের জন্য অনিশ্চয়তার কারণ হিসেবে দেখছেন। এদিকে, পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের প্রাথমিক হামলাগুলো মোকাবিলা করতেই এ পর্যন্ত প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যয় হয়েছে।

এই বিপুল পরিমাণ সামরিক ব্যয় এবং কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। উদ্ভূত এই সংকটের কারণে আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিশনেও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।