রাজধানীর ফিলিং স্টেশনে সাংবাদিকের পিস্তল তোলার ঘটনা
রাজধানী ঢাকার আসাদ গেট এলাকার সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে একটি উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একজন সাংবাদিক তেল নেওয়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পিস্তল বের করেছেন। গতকাল রোববার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে আসাদ গেট এলাকার সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়িতে তেল নেওয়ার পর পাম্পের একজন কর্মচারীর সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিনি ওই কর্মচারীর দিকে তেড়ে যান এবং কোমর থেকে পিস্তল বের করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজন জড়ো হয়ে যান এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
সাংবাদিক সৈয়দ মাহমুদুল ইল্লাহ, যিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরে কর্মরত, আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি তেল নিতে পাম্পে যান। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাঁকে ১ হাজার ৫০০ টাকার তেল দিতে চাইলে তিনি গাড়ির ট্যাংক ভরে দিতে বলেন। কিন্তু কর্মচারী ট্যাংক ভরে দিতে অস্বীকার করেন। তখন তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিলে পাম্পের তেল বিক্রয়কর্মী তাঁকে গালাগালি করেন এবং পরে মারতে আসলে তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেন।
পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপ
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী ওই সাংবাদিককে ১ হাজার ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল দিতে চাইলে তিনি গাড়ির ট্যাংক পরিপূর্ণ করে দিতে বলেন। বিক্রয়কর্মী ট্যাংক পরিপূর্ণ করে দিতে অস্বীকার করেন। পরে তিনি অতিরিক্ত জ্বালানি তেলের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় সাংবাদিকের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পরীক্ষা করে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দেশনায় একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল/অকটেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে ১০ লিটার এবং এসইউভি/মাইক্রোবাসে ২০-২৫ লিটার তেল নির্ধারণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার এই নির্দেশনা দেওয়ার পর সে অনুযায়ী তেল বিক্রি করছেন পাম্পের কর্মীরা, যা এই ঘটনার পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে।
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং জ্বালানি সংকটের সময়ে জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ও অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ঘটনাটি আরও বিস্তৃত হওয়া রোধ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।



