ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের, উত্তেজনা আরও বাড়ল
ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের প্রতিক্রিয়া সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পাঠানো জবাবকে তিনি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের বার্তা

এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সেই বার্তা ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। তবে বার্তার বিস্তারিত কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তেহরানের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন যে, তিনি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়াটি পড়েছেন এবং সেটি তার মোটেও পছন্দ হয়নি।

ট্রাম্পের অবস্থান

ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরার যে ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, তা পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া জবাবে মূলত সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা

তবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি ঠিক কবে নাগাদ বা কীভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হতে পারে, সেই বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত বা সময়সীমা দেওয়া হয়নি। এই অস্পষ্টতা মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে শর্ত

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসার আগে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তেহরান দাবি করেছে, যেকোনো আলোচনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। তবে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই এই শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক এই সংকট নিরসনের পথ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: বিবিসি