মধ্যপ্রাচ্যের রাজপরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৩০ কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত দুই সহোদর—৪২ বছর বয়সী জুবায়ের আল জুবায়েরকে ২৪ বছর এবং ৩১ বছর বয়সী মুজাম্মিল আল জুবায়েরকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
অভিযোগ ও অপরাধের বিবরণ
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দুই ভাই ঘুষ দেওয়া, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের মতো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক ডোনাল্ড নুজেন্ট বলেন, ‘আপনারা বিপুল অর্থ চুরি করেছেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন এবং ইস্ট ক্লিভল্যান্ড শহরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। বিলাসবহুল গাড়ি চালানো ও ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণের মাধ্যমে আপনারা নিজেদের অপরাধই জাহির করেছেন।’
প্রতারণার কৌশল
আদালত বলেছেন, ওই দুই ভাই অত্যন্ত সম্পদশালী এবং অভিজাত মহলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, এমনভাবে নিজেদের তুলে ধরতেন। জুবায়ের মিথ্যা দাবি করেছিলেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক রাজকুমারীকে বিয়ে করেছেন। অন্যদিকে মুজাম্মিল কেবল ইউটিউব ভিডিও দেখে নিজেকে একটি হেজ ফান্ড প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক হিসেবে পরিচয় দিতেন।
আদালতের প্রসিকিউটররা বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি, করোনা মহামারির ত্রাণ তহবিল এবং ভুয়া বিনিয়োগের নামে অন্তত ২ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন জুবায়ের আল জুবায়ের ও মুজাম্মিল আল জুবায়ের। তদন্তে দেখা যায়, তারা এক চীনা বিনিয়োগকারীকে একটি শিল্প কমপ্লেক্সের মালিকানা এবং সেখানে ক্রিপ্টো ব্যবসা শুরুর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আত্মসাৎ করেন। এছাড়া জুবায়েরের সাবেক আমিরাতি প্রেমিকাও এই চক্রের হাতে ৭ লাখ ৩৭ হাজার ডলার হারিয়েছেন।
অর্থের অপব্যবহার
হাতিয়ে নেওয়া এই অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে করে অ্যাসপেন, মিয়ামি, লন্ডন এবং মাদ্রিদের মতো শহরে ভ্রমণ করতেন ওই দুই ভাই। এছাড়া তাদের সংগ্রহে ছিল নামী ব্র্যান্ডের গাড়ি, দামি ঘড়ি এবং সোনায় মোড়ানো একে-৪৭ সদৃশ রাইফেল।
ঘুষ ও সরকারি কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা
নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্য ইস্ট ক্লিভল্যান্ডের মেয়রের চিফ অব স্টাফ ৫৬ বছর বয়সী মাইকেল স্মেডলিকে ঘুষও দিয়েছিলেন তারা। স্মেডলিকে নগদ অর্থ ছাড়াও জাপানি ওয়াগিউ বিফ, ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনস দলের খেলার টিকিট, দামি সিগারেট এবং ভবিষ্যৎ চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে স্মেডলি তার পদের অপব্যবহার করে জুবায়ের ও মুজাম্মিলকে ব্যবসায়িক কাজে সরকারি প্যাড ব্যবহার করতে দেন এবং জুবায়েরকে শহরের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।
বিচার ও রায়
দুই সপ্তাহের বিচার প্রক্রিয়া শেষে ফেডারেল জুরি বোর্ড এই তিনজনকে ঘুষের ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি এবং অর্থপাচারসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। ওই দুই সহোদরের পাশাপাশি মেয়রের সাবেক সহকারী মাইকেল স্মেডলিকেও আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আদালত তাদেরকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট



