মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তি বৃদ্ধি, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মাঝে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তি বৃদ্ধি, যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বিশাল রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ইতোমধ্যে এটি সেন্টকমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় প্রবেশ করেছে।

রণতরির অবস্থান ও উদ্দেশ্য

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা গেছে, নিমিটজ-শ্রেণির এই সুপারক্যারিয়ারটি আজ ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির এই নতুন সংযোজন ওই অঞ্চলে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক বার্তা দিচ্ছে। ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ রণতরিটির এই অবস্থান পরিবর্তন ঠিক কী উদ্দেশ্যে তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি পেন্টাগন। এটি এই অঞ্চলে আগে থেকে মোতায়েন থাকা অন্য জাহাজগুলোর সঙ্গে যোগ দেবে নাকি কোনো একটির স্থলাভিষিক্ত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে।

দুই সুপারক্যারিয়ারের উপস্থিতি

সেন্টকম জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ লোহিত সাগরে অবস্থান করে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অধীনে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে একই সময়ে ওই অঞ্চলে দুটি শক্তিশালী সুপারক্যারিয়ারের উপস্থিতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের বিশাল রণতরি মোতায়েন কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নৌ-অবরোধ এবং আকাশপথের নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করার একটি প্রয়াস।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

গত কয়েক মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। তবে এই রণতরির অবস্থানকে কেন্দ্র করে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও এভিয়েশন ও নৌ-নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একে একটি বড় ধরনের সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন। নিমিটজ-শ্রেণির এই সুপারক্যারিয়ারটির ভারত মহাসাগরে আগমনের মধ্য দিয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের অপারেশনাল সক্ষমতাকে আরও বৃদ্ধি করল। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন দিনগুলোতে এই রণতরিটির গন্তব্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সামরিক সাজ সাজ রব চলছে, তাতে ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশের উপস্থিতি যুদ্ধের ময়দানে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতেই যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে। সূত্র: বিবিসি