ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ৩২ জন নিহত, ৭০০ আহত, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে ৩২ জন নিহত

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার পর শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি ৭.২ মাত্রার ছিল এবং এটি সান ফেলিপের কাছে আঘাত করে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর ৭.৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প ইউমারের কাছে আঘাত হানে।

হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৩২ জন নিহত ও প্রায় ৭০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউএসজিএস সতর্ক করে বলেছে, এই ভূমিকম্পে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এবং ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিবিসির সাংবাদিক ভ্যালেন্তিনা ওরোপেজা জানান, তার বোন ভেরোনিকা তাকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি অডিও বার্তা পাঠান, যেখানে তিনি বলেন, 'বাড়িটা ভয়ংকরভাবে কেঁপে উঠল, এখনো কাঁপছে।' ভ্যালেন্তিনা বলেন, 'তখনো জানতাম না, কারাকাসের মানুষ কয়েক মুহূর্ত আগে শক্তিশালী এক ভূমিকম্পের ধাক্কা অনুভব করেছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভ্যালেন্তিনা তার বোন ও মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু দুই ঘণ্টা ধরে কোনো সাড়া পাননি। পরে তিনি কারাকাসের সাংবাদিকদের একটি চ্যাট গ্রুপে ভূমিকম্পের খবর দেখতে পান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে লস পালোস গ্রান্দেস এলাকার একটি ভবন বিস্কুটের মতো ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যেতে দেখা যায়। ভ্যালেন্তিনা বলেন, 'ভবনটি দেখেই আমি চিনতে পেরেছি। মা ও বোন ভেরোনিকা যেখানে থাকে, সেখান থেকে ভবনটি মাত্র কয়েক মিটার দূরে।'

প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভেরোনিকা ফোন করে জানান, তিনি ও তার মা বেঁচে আছেন। ভেরোনিকা বলেন, 'বোন, আমি ভেবেছিলাম আমরা মারা যাচ্ছি।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জরুরি অবস্থা ও উদ্ধার তৎপরতা

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। জোড়া ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়, তবে অল্প সময় পরই তা তুলে নেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কারাকাসে ব্যাপক ধ্বংসের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। হাসপাতালগুলোতে আহত ব্যক্তিরা ভিড় করছেন। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদ্যালয় ও রেলসেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।