কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র ফিরহাদ হাকিম আজ শুক্রবার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিকেলের দিকে পৌর করপোরেশনের চেয়ারপারসন মালা রায়ের কাছে ফিরহাদ হাকিম তাঁর পদত্যাগপত্র তুলে দেন। ফিরহাদ হাকিম অবশ্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ফিরহাদ হাকিম ২০১৮ সালে কলকাতা পৌর করপোরেশনের মেয়র হন। এর আগে চন্দননগর পৌরসভা এবং বিধাননগর পৌরসভার মেয়র একই কারণে পদত্যাগ করেছেন।
পদত্যাগের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘দলের তরফে নেত্রীর কাছে পারমিশন চেয়েছি। আমি বলেছিলাম আমি সসম্মানে চলে যেতে চাই। উনি আমাকে বলেছেন ঠিক আছে।’ তিনি মনপ্রাণ দিয়ে পৌর করপোরেশনের উন্নতির জন্য কাজ করে গেছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেছেন, তিনি পৌর করপোরেশনকে সাজিয়ে তুলেছেন। হয়তো তাঁর কাজে কেউ অসন্তুষ্ট হতেই পারেন, তবু তিনি তাঁর কাজের দায়দায়িত্ব নিয়ে আজ পদত্যাগ করলেন।
এর আগে গত বুধবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহ করে বসেন। তাঁরা তৃণমূলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী নেতার আসনে বসান। এ সিদ্ধান্তের ফলে কার্যত মমতার তৃণমূল কংগ্রেস দুই টুকরা হয়ে যায়। মমতার সঙ্গে দলের বিধায়ক ও সংসদ সদস্যরা দূরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন বিধানসভার ফল ঘোষণার পর থেকে। নির্বাচনে মমতার ভরাডুবি হয়। এই পরাজয়ের পর রাজ্যের তৃণমূল বিধায়ক ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ শুরু হয় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।



