ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড় এনেছেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবির। একসময় দলবিরোধী অবস্থানের কারণে বহিষ্কৃত হওয়া এই নেতা এখন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় ফিরতে নিজের আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
পরাজয়ের পর মমতার অবস্থা
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার ভবানিপুর কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মমতা পরাজিত হন। তিনি হেরে যান তার সাবেক সহযোগী এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। ফলে বর্তমানে তিনি বিধায়ক নন এবং বিধানসভায় ফিরতে হলে তাকে উপনির্বাচনে জয়ী হতে হবে।
হুমায়ুন কবিরের প্রস্তাব
এমন পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবির সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের পর তিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি নামে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি আসন থেকেই জয়ী হন। তিনি জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত, যাতে সেখানে উপনির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল নেত্রী বিধানসভায় ফিরতে পারেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, "মমতা যদি আমার কাছে আসেন, তাহলে আমি তাকে রেজিনগর থেকে বিধানসভায় পাঠাতে পারি।" তিনি আরও দাবি করেন, "যদি তিনি নন্দীগ্রাম থেকে লড়েন, তাহলে জিততে পারবেন না। কিন্তু চাইলে আমি পদত্যাগ করব এবং আমার কেন্দ্র থেকে তার জয় নিশ্চিত করব।"
শুভেন্দু অধিকারীর আসন ত্যাগ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানিপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন।
হুমায়ুন কবিরের অনুভূতি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, "আজ তিনি যে পরিস্থিতির মধ্যে আছেন, তা আমাকে কষ্ট দেয়। আমি আজ যা হয়েছি, তার কারণ তিনিই।" তবে একই সঙ্গে মুর্শিদাবাদে নিজের রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, "এখন হয়তো অনেকেই মমতার কথা শুনবেন না, কিন্তু রেজিনগরে হুমায়ুন কবিরই শেষ কথা।"



