ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য খুন, নিহতদের বাড়ি নোয়াখালীতে
ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য খুন

ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের তিন সদস্য নিহত

ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যাসালোত্তি এলাকায় বাংলাদেশি একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে। তারা হলেন সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন ওরফে বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) ও মেয়ে আরিশা (৫)। আহত হয়েছেন কামাল উদ্দিনের ছেলে অয়ন (২০)। তাকে রোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালীর বাড়িতে শোকের মাতম

একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার খবরে নোয়াখালীর বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। দূরদূরান্ত থেকে স্বজনরা ছুটে আসছেন। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে পরিবারের সদস্যরা তিনজন নিহতের খবর পান। এরপর থেকে বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। নিহত কামাল উদ্দিনের বাবা সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও মা জাহানারা বেগম (৬০) আহাজারি করতে করতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকে কাতর নিহত কামালের পাঁচ বোন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

নিহত কামালের চাচাতো ভাই ইউনুছ সুমন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ইতালিতে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হন। ইতালিতে থাকা স্বজনরা জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন কামাল। তার পেছনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কামাল, তার স্ত্রী ও সন্তানদের কোপাতে থাকে। ঘটনাস্থলেই কামাল, আরজু আক্তার ও আরিশার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীর চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। গুরুতর আহত অয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউনুছ সুমন বলেন, 'কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'

পরিবারের ইতিহাস

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে কামাল উদ্দিন ইতালি যান। ২০২৪ সালে দেশে এসে পরিবারকেও সেখানে নিয়ে যান তিনি। সর্বশেষ গত বছর দেশে এসেছিলেন কামাল।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, 'স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি শুনেছি। নিহত ব্যক্তিদের গ্রামের বাড়িতে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।