কুয়েতে ফেরার তিন দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল প্রবাসী তরুণের
কুয়েতে ফেরার তিন দিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল তরুণের

ছয় মাসের ছুটি শেষে কুয়েতে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন প্রবাসী তরুণ মুন্না মিয়া (২০)। কিন্তু আগামী ২৮ জুন কর্মস্থলে ফেরার কথা থাকলেও মাত্র তিন দিন আগে বাড়ির নির্মাণকাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার বিবরণ

নিহত মুন্না ওই এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে কুয়েতে বসবাস করতেন। মুন্নাও সেখানে গাড়িচালকের কাজ করতেন। প্রায় ছয় মাস আগে রিয়াজ ও তাঁর স্ত্রী দেশে ফেরেন। এ সময় ছোট ছেলে মুন্নাও তাদের সঙ্গে দেশে আসেন। ছুটি শেষে আগামী ২৮ জুন তাঁর কুয়েতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।

ঘটনার সময় ও স্থান

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুরে তাদের চারতলা বাড়ির নিচতলায় টাইলস বসানোর কাজ চলছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিয়াজ উদ্দিন ও মুন্না ঘর পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় মুন্না টাইলস কাটার যন্ত্রের বিদ্যুৎ সংযোগে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে রিয়াজ উদ্দিনও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে মুন্নাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শোকাচ্ছন্ন পরিবার

শুক্রবার সকালে মুন্নাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নিহতের দাদা আবদুল গণি বলেন, ‘২৮ জুন নাতির কুয়েতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। জন্ম থেকে বড় হওয়া—সবই কুয়েতে। খুব মায়ার নাতি ছিল। সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল।’

পুলিশের পদক্ষেপ

জুড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মিয়া জানান, স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মুন্নার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ