ইরান-মার্কিন দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা সামনে ইসলামাবাদে সর্বোচ্চ সতর্কতা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দল পৌঁছেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) ওয়াশিংটনের একটি উচ্চপর্যায়ের দল আলোচনার উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদে অবতরণ করে। আগামী সপ্তাহে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিক সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের আগমনে ফেডারেল রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অভূতপূর্বভাবে জোরদার করা হয়েছে। ইসলামাবাদ পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শহরের রেড জোন ও বর্ধিত রেড জোন এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। নাগরিকদের যাতায়াতের জন্য বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিণ্ডির জেলা প্রশাসন দুই শহরে সমস্ত গণপরিবহণ ও পণ্যবাহী যান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে। জেলা প্রশাসকরা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই এই নির্দেশ জারি করেছেন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
১০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
রাওয়ালপিণ্ডি পুলিশের সিটি অফিসার সৈয়দ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে পুরো শহরকে উচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলোতে ৬০০-এর বেশি বিশেষ পিকেট স্থাপন করা হয়েছে।
এলিট কমান্ডো ও স্নাইপাররা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন এবং ডলফিন ফোর্সসহ কুইক রেসপন্স ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। সংবেদনশীল স্থাপনা ও আবাসিক এলাকায় নজরদারির জন্য ‘সেফ সিটি’ প্রকল্পের সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রথম দফা আলোচনার পটভূমি
এর আগে গত ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর ১০ ও ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করে। এরপর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফরের মধ্য দিয়ে দেশটি কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় কিছুটা ‘অগ্রগতি’ হয়েছে, তবে এখনো অনেক মৌলিক বিষয়ে বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে আলোচনা প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে ‘খুবই ফলপ্রসূ’ কথাবার্তা চলছে, তবে তিনি তেহরানকে কোনো ধরনের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এই আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা
বিশ্বনেতারা দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে এই আলোচনা শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই সংলাপকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সূত্র: জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা এখন আলোচনার টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজছে।



