ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন ট্রাম্প, নতুন ঘোষণা নেই
ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ভাষণে নতুনত্ব নেই

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন ট্রাম্প, নতুন ঘোষণা নেই

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় রাত ৯টায়, ২ এপ্রিল এই ভাষণ অনুষ্ঠিত হয়। ভাষণ শুরুর আগে ধারণা করা হচ্ছিল যে ট্রাম্প হয়তো কোনো বড় ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, কিন্তু বুধবারের ২০ মিনিটেরও কম সময়ের বক্তব্যে তিনি কেবল পূর্বের কথাগুলোরই পুনরাবৃত্তি করেছেন।

বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

বিশ্লেষকরা আশা করেছিলেন যে ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধের সমাপ্তি অথবা স্থল অভিযানের মতো কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেবেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত কেবল পুরোনো কড়া বুলি শুনিয়েই ক্ষান্ত হয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ভাষণের মূল দিকগুলো উঠে এসেছে, যা দেখায় যে নতুন কোনো তথ্য বা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়নি।

ভাষণে নতুনত্বের অভাব

ট্রাম্পের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে চারটি পরিচিত যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে: এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল, যুদ্ধে ইতিমধ্যে জয় অর্জিত হয়েছে, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে এবং খুব শিগগিরই এর সমাপ্তি ঘটবে। যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে কিংবা ইরানের সঙ্গে তিনি ঠিক কী ধরনের চুক্তি করতে চান, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি। গত ১১ মার্চ তিনি বলেছিলেন যে যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে, কিন্তু এই ভাষণে বিশেষজ্ঞরা নতুনত্ব খুঁজে পাননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা

নতুন ঘোষণা না থাকলেও ভাষণের মাধ্যমে ক্লান্ত মার্কিন জনগণের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে এবং সেটি ব্যবহার করতে পারে, তাই আমেরিকা ও ইসরায়েলের এই অভিযান প্রয়োজন ছিল। তবে এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে ২০২৫ সালের জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা একটি বৈপরীত্য তৈরি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনা এড়িয়ে যাওয়া

এক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প বলে আসছিলেন যে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার গোপন আলোচনা চলছে। এমনকি ভাষণ দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন যে ইরানের প্রেসিডেন্ট তাঁর কাছে যুদ্ধবিরতি চেয়েছেন। কিন্তু ইরান সরাসরি এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে এবং ট্রাম্প ভাষণে আলোচনা বা কূটনীতি নিয়ে কোনো কথা উচ্চারণ করেননি।

বিজয় বিভ্রম ও বাস্তবতা

বক্তৃতার বেশির ভাগ সময় ট্রাম্প দাবি করার চেষ্টা করেন যে আমেরিকা ইতিমধ্যে যুদ্ধে জিতে গেছে। তিনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতাও শেষ। তবে ট্রাম্পের এই বক্তৃতার কিছু সময় পরই ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যা তাঁর দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জ্বালানিসংকট ও ভবিষ্যৎ

আমেরিকায় পেট্রলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ট্রাম্প এই দুর্ভোগের জন্য ইরানকে দায়ী করলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়াকে গুরুত্বের সঙ্গে সমাধান করেননি। উল্টো তেল আমদানিকারক দেশগুলোকে এর পাহারায় এগিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দেশটির বেসামরিক বিদ্যুৎ গ্রিডগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্লেষক সিনা আজোদির মতে, ট্রাম্পের এমন সরাসরি হুমকি আসলে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থারই কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, এই ভাষণ ট্রাম্পের যুদ্ধ নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব এবং জনমত পরিচালনার চেষ্টা নির্দেশ করে।