ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের কঠোর বার্তা: 'চূর্ণবিচূর্ণ' হামলার অঙ্গীকার
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের কঠোর বার্তা

ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের কঠোর বার্তা: 'চূর্ণবিচূর্ণ' হামলার অঙ্গীকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির প্রত্যুত্তরে ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'চূর্ণবিচূর্ণ' হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড 'খাতাম আল-আনবিয়া' জানায়, 'সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে এই যুদ্ধ চলবে—আপনাদের অপমান, পরাজয়, স্থায়ী অনুতাপ ও আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত।'

ট্রাম্পের হুমকি: ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' ফেরানো

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে 'প্রস্তর যুগে' ফিরিয়ে দেওয়ার মতো হামলা চালানো হবে। হোয়াইট হাউসে দেওয়া জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গত চার সপ্তাহে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল নয়, তবে মিত্রদের সহায়তার জন্য অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পাল্টা হুমকি ও আঞ্চলিক প্রভাব

ইরানের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'আরও কঠোর, বিস্তৃত এবং ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।' অন্যদিকে, ট্রাম্প তার ভাষণে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনসহ আঞ্চলিক মিত্রদের ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, 'আমরা তাদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেব না।'

ভাষণে ট্রাম্প পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে 'আমেরিকার মৃত্যু' ও 'ইসরাইলের মৃত্যু' স্লোগান দিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন হামলার পেছনে তাদের ভূমিকা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, তার প্রশাসন আগেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেছে এবং ২০২০ সালে ইরানের কুদস ফোর্সের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, চলমান সামরিক অভিযানের 'মূল লক্ষ্য প্রায় অর্জিত' এবং যুদ্ধ শেষের পথে, তবে প্রয়োজন হলে আরও কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দেন।

বিশ্লেষকদের মতামত

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে তারা আরও বড় ও ধ্বংসাত্মক পাল্টা আঘাত হানবে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সতর্ক পর্যবেক্ষণ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।