ট্রাম্পের দাবি: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন খুব কাছাকাছি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মূল কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার দাবি করেছেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন, তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। বুধবার দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে ‘বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী মদতদাতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আজ আগের চেয়ে বেশি জয়ী হচ্ছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত: ট্রাম্প
ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের সমালোচনা করে বলেন, এই ‘ধর্মান্ধ শাসকগোষ্ঠী’ গত ৪৭ বছর ধরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ধ্বংস কামনা করে স্লোগান দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানি নৌবাহিনী বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের বিমান বাহিনী এখন পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে। গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ণায়ক বিজয় অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হুমকি বন্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র
ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে আসা হুমকি চিরতরে বন্ধ করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘আমরা আমেরিকা এবং বিশ্বের জন্য ইরানের অশুভ হুমকির অবসান ঘটানোর খুব কাছাকাছি রয়েছি। আমাদের লক্ষ্যগুলো খুব দ্রুতই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।’ তবে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ চলবে বলে জানান তিনি। পরবর্তী দুই থেকে তিন সপ্তাহে আরও তীব্র হামলার সতর্কবার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি... আমরা তাদের প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।’
শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও হুমকি
ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ কখনোই তার লক্ষ্য ছিল না, তবে ইরানের নেতার মৃত্যুর পর এটি ঘটে গেছে। কোনও চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে একযোগে ভয়াবহ হামলার হুমকিও দেন তিনি। এছাড়া, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ট্রাম্প। উপসাগরীয় তেল আমদানিকারক দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রণালিতে যান এবং এর নিয়ন্ত্রণ নিন, এটিকে রক্ষা করুন। কিছুটা সাহস সঞ্চয় করুন।’
আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি
ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের মতো আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা দুর্দান্ত কাজ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেবে না। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয়টিও স্বীকার করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি এই মূল্যবৃদ্ধিকে সাময়িক বলে বর্ণনা করেন এবং এর জন্য তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি হামলাকে দায়ী করেন। ট্রাম্প আবারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছে আছি।’



