ট্রাম্পের হুমকি: ইরানে ভয়াবহ হামলা ও যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের দাবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার (১ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেছেন, ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে আরও ভয়াবহ ও আগ্রাসী হামলা চালানো হবে। যুদ্ধক্লান্ত মার্কিন জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, গত ৩২ দিনের সামরিক অভিযানে তার বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ‘দ্রুত, নির্ণায়ক এবং অপ্রতিরোধ্য বিজয়’ অর্জন করেছে।
ইরানের সক্ষমতা 'পাথর যুগে' ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি
ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরান এখন আর আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি নয়। তার মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে চরম আঘাত করা হবে এবং তাদের সক্ষমতাকে ‘পাথর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তার ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে, আমেরিকার সামরিক লক্ষ্যগুলো খুব শিগগিরই পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
পারমাণবিক হুমকি ও ভবিষ্যত হামলার সতর্কতা
ট্রাম্প রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। যদিও নিজের দাবির সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি, তবে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, যদি ভবিষ্যতে আবারও পারমাণবিক হুমকি দেখা দেয়, তবে মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনে আবারও ‘স্পট হিট’ বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব ও ট্রাম্পের আহ্বান
এদিকে, বিশ্ববাজারের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হরমুজ প্রণালি অপরিহার্য নয় এবং যেসব দেশ এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের উচিত এটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য কাজ করা। তিনি মিত্র দেশ বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোকে ‘সাহস সঞ্চয় করে’ হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি তিনি ন্যাটোর প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো সহায়তা না করলে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিরক্ষা জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।
ইরানের অনড় অবস্থান ও ভবিষ্যত হুমকি
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার খবর অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির গ্যারান্টি চায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরান বর্তমানে বড় কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে একযোগে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই বক্তব্য এবং ইরানের অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দুই সপ্তাহ মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত সংকটকাল হতে যাচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স



