ইসরাইলে তৃতীয় দফার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করল ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ইসরাইলের ওপর তৃতীয় দফার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। বুধবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইলে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের কথা তাদের মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে, ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হুথিদের বিবৃতি ও হুমকি
হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা ইরান ও হিজবুল্লাহর সহযোগিতায় চলমান যুদ্ধে তৃতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিচালনা করেছে। তেহরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে 'ইসরাইলি শত্রুদের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তু' লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে।
এছাড়াও, হুথি গোষ্ঠী স্পষ্ট হুমকি দিয়ে বলেছে, লেবানন, ইরান, ইরাক এবং দখলকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলে তারা পরিস্থিতি আরও 'ভয়াবহ' করে তুলবে। এই বিবৃতিটি এসেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করার প্রায় তিন ঘণ্টা পরে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে, হুথি গোষ্ঠীর এই দায় স্বীকার আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ঘটনা ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুথিদের এই হামলা ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের জোটের শক্তির প্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, কারণ হুথি গোষ্ঠীর হুমকি ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সতর্কতা জারি করেছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলছে।



