চট্টগ্রাম শাহ আমানতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে আরও চারটি ফ্লাইট বাতিল
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আরও চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
বাতিলকৃত ফ্লাইটের বিস্তারিত বিবরণ
বিমানবন্দর সূত্র থেকে জানা গেছে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের আবুধাবি থেকে আগত একটি আগমন ফ্লাইট এবং দুবাইগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, এয়ার আরাবিয়ার শারজাহ রুটে একটি আগমন ও একটি প্রস্থান ফ্লাইটও স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই বাতিলের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডের বন্ধ থাকা। যুদ্ধজনিত অস্থিরতার ফলে এই অঞ্চলের আকাশপথে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।
অন্যান্য ফ্লাইটের চলাচল ও বর্তমান পরিস্থিতি
যদিও চারটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, তবুও মঙ্গলবার কিছু ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত সাতটি আগমন ফ্লাইট এবং চারটি প্রস্থান ফ্লাইট সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে ফ্লাইটের স্থবিরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও যাত্রী নিরাপত্তা
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথের অস্থিরতা আমাদের বিমান চলাচলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে এবং যেকোনো জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোর উপর এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।



