প্রিন্ট: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থতার কারণ বিশ্লেষণ
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও অর্থনৈতিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ থামানো যাচ্ছে না। ইরানের চেয়ে তিন গুণ বেশি জনসংখ্যা এবং বিশ্বের সর্বাধিক শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলের সহায়তা সত্ত্বেও এই সংঘাত সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে।
কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে ইরানের সুবিধা
যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর লড়াই এখন দর-কষাকষির ক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্তি বেশি হলেও নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য তাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে, যা তার মানসিক প্রস্তুতির বাইরে। ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে হারাতে না পারলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে তাদের তুরুপের তাসটি ব্যবহার করেছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করেছে এবং ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এখন তেহরানের হাতে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক দুর্বলতা
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিটের দাবি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, যা ট্রাম্পের কূটনৈতিক জয় হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা এটিকে দৃষ্টিকটু মনে করেন, কারণ যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে দিনে গড়ে ১০০টির বেশি ট্যাংকার চলাচল করত।
লেভিটের এই দাবি আসলে ট্রাম্পের নিজের তৈরি সংকটের একটি ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মেরামতের চেষ্টামাত্র। সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সামর্থ্য যুক্তরাষ্ট্রের আছে, কিন্তু ইরান যদি একটি জাহাজও ডুবিয়ে দেয়, তা তেহরানের জন্য প্রোপাগান্ডা বিজয় হয়ে দাঁড়াবে।
যুদ্ধের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন ও এয়ারবোর্ন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাম্প ইরানের তেলক্ষেত্র দখল বা হরমুজ প্রণালির দ্বীপগুলো দখলের হুমকি দিলেও, এতে ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হতে পারে, কিন্তু আত্মসমর্পণের নিশ্চয়তা নেই। বরং ইরান আরও মরিয়া হয়ে পাল্টা আঘাত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদেশগুলো, যা বিশ্ববাজারে চরম ধস ও মন্দার ঝুঁকি বাড়াবে। ট্রাম্পের ডেসালিনেশন প্ল্যান্টে হামলার হুমকি যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন তুলেছে, যা হোয়াইট হাউসের জন্য নতুন বিপদ ডেকে এনেছে।
অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিণতি
হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আরও কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ইরানের দীর্ঘায়িত যুদ্ধ কৌশল উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ছে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ তত বাড়বে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ত্রিতা পার্সি সতর্ক করেছেন, ট্রাম্প যদি নিয়ন্ত্রণ হারান, তিনি হামলা বাড়িয়ে দিতে পারেন, যা বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সূত্র: সিএনএন



