মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনীর অভিযানে ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির প্রয়োজন নেই।
ইরানের পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন
ট্রাম্পের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র হামলায় ইরান এতটাই বিধ্বস্ত হয়েছে যে, দেশটি পুনর্গঠনে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগবে। বুধবার (১ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা ইরানের সম্ভাব্য সবকিছু ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলাম। আমরা তাদের অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছি। আমরা যা করেছি, তা কাটিয়ে উঠে দেশটির পুনর্গঠনে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগবে।"
ইরানের সামরিক ও অবকাঠামো অবস্থা
এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের এখন কোনো নৌবাহিনী নেই, সেনাবাহিনী নেই, বিমানবাহিনীও নেই। তাদের কোনো টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা বা কোনো নেতা— কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই অবস্থা ইরানের সামগ্রিক ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনার সম্ভাবনা ও মার্কিন অবস্থান
আলোচনার বিষয় উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, "ইরান যদি আলোচনার টেবিলে আসে, তবে ভালো। কিন্তু তারা আলোচনায় এল কি না, তাতে এখন আর আমাদের কিছু যায় আসে না।" এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য অপেক্ষা করছে না, বরং তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান এখন অনেক শক্তিশালী।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরান সংকটের একটি নতুন মোড় নির্দেশ করে, যেখানে যুদ্ধের অবসান সম্ভবত নিকটবর্তী, কিন্তু ইরানের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



