ইরানের সাথে যুদ্ধের অবসান আসন্ন, হরমুজ প্রণালি খুলবে দ্রুত: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হতে যাচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের ফলে ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার কারণে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতির প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি।
মার্কিন অভিযানে ইরানের সক্ষমতা প্রায় শেষ
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, মার্কিন অভিযানের মুখে ইরানের পাল্টা লড়াইয়ের সক্ষমতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে আর খুব বেশিদিন থাকব না। তবে ইরানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি পুরোপুরি নির্মূল করতে আমাদের আরও কিছু কাজ সম্পন্ন করা বাকি আছে।’
ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, দেশটির শক্তি এখন তলানিতে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান এখন আর বড় কোনো হুমকি সৃষ্টি করার অবস্থায় নেই, যার ফলে আন্তর্জাতিক এই নৌপথটি ব্যবহারের বাধা দ্রুতই কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়েও কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে এই জলপথটি দিয়ে নৌ-চলাচল ব্যাহত থাকলেও ট্রাম্পের বিশ্বাস, এটি খুব দ্রুতই স্বাভাবিক হবে। তবে এই প্রণালি উন্মুক্ত করার দায়িত্ব ওই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর ওপরই ছেড়ে দিতে চান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি এটি (হরমুজ প্রণালি) স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। আমরা দেশটিকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছি, তাদের আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট নেই। যেসব দেশ এই জলপথ ব্যবহার করে, তারাই এখন এগিয়ে আসুক এবং এটি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। ট্রাম্পের মতে, যারা তেল বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি খুলে দিতে পারলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। এই প্রণালির স্বাভাবিকীকরণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন
ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে। এই অবস্থানে পরিবর্তন আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যারা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। ট্রাম্পের আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কতটা দ্রুতগামী হবে তা এখনও দেখার বিষয় রয়ে গেছে।



