ইরানি হামলায় তেল ট্যাঙ্কার জ্বলছে, হাইফায় আগুন; ট্রাম্পের হুমকিতে উত্তেজনা তুঙ্গে
ইরানি হামলায় তেল ট্যাঙ্কার জ্বলছে, ট্রাম্পের হুমকিতে উত্তেজনা

ইরানি হামলায় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত, হাইফায় আগুনের ঘটনা

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ইসরায়েলের একটি তেল শোধনাগারের শিল্প ভবন ও জ্বালানি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে হাইফা শহরে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনাটি ৩০ মার্চ সংঘটিত হয় এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কুয়েতি ট্যাঙ্কারে হামলা ও তেলের দাম বৃদ্ধি

ইরান গতকাল সোমবার দুবাই উপকূলে একটি বড় তেল ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, যা প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম কুয়েতের পতাকাবাহী আল-সালমি ট্যাঙ্কার। এই হামলার পর অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ট্যাঙ্কারে থাকা তেলের বর্তমান মূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ক্ষতির মূল্যায়ন শুরু করেছে, যদিও দুবাই কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে ড্রোন হামলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও বৈশ্বিক প্রভাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি না খোলে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এনার্জি প্ল্যান্ট ও তেলকূপ ধ্বংস করে দেবে। এই হুমকির প্রেক্ষিতে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া অর্থনীতিতেও দেখা দিচ্ছে, যেখানে গ্যাসের খুচরা মূল্য প্রতি গ্যালন চার ডলার অতিক্রম করেছে, যা তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বৈশ্বিক সরবরাহ কমে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার ও সামরিক উত্তেজনা

মাসব্যাপী চলা এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়েছে, যাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছে, অন্যদিকে তুরস্ক জানিয়েছে যে ইরান থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল, যা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েল তেহরান ও বৈরুতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছে, যাতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সৈন্যরা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছেন, যা সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন যে ট্রাম্প ৬ এপ্রিলের আগে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাচ্ছেন, কিন্তু হরমুজ প্রণালি না খোলার ক্ষেত্রে নতুন হুঁশিয়ারিও জারি করেছেন। ইরান জানিয়েছে যে তারা পাকিস্তান, মিসর, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব পেয়েছে, তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব, অযৌক্তিক এবং অতিরিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ট্রাম্পের সামাজিক মাধ্যম বার্তা ও যুদ্ধের আর্থিক দিক

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন যে ‘বড় অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু যদি হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খোলা না হয়, আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ ও খারগ দ্বীপ ধ্বংস করে দেব।’ হোয়াইট হাউস বলেছে যে ট্রাম্প আরব দেশগুলোকে যুদ্ধের খরচ বহনের জন্য অনুরোধ করতে পারেন, এবং প্রশাসন ইতিমধ্যেই যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার অনুদানের আবেদন করেছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।