দুবাই বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এর মূল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি, আক্রান্ত জাহাজটি থেকে সাগরে বিপুল পরিমাণ তেল ছড়িয়ে পড়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত ও পরবর্তী অবস্থা
দুবাই কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, আল-সালমি নামের এই কুয়েতি জাহাজে ড্রোন হামলার কারণে আগুন লেগেছিল। মঙ্গলবার ভোরে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর নৌ-অগ্নিনির্বাপক দল সফলভাবে সেই আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এই হামলায় কোনো প্রকার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং জাহাজের ২৪ জন ক্রু সদস্য সকলেই নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে জাহাজটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি) ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছে।
জাহাজের তেলের পরিমাণ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
আক্রান্ত জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল পরিবহনের ক্ষমতা রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২০ কোটি ডলারেরও বেশি। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজটি কুয়েত ও সৌদি আরব থেকে সংগ্রহ করা তেল নিয়ে চীনের চিংদাও বন্দরের দিকে যাত্রা করছিল।
কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
এই হামলার ঘটনা ঘটেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুঁশিয়ারির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনিগুলো ধ্বংস করে দেবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে একের পর এক হামলা চলছে। আল-সালমি জাহাজে এই হামলা সেই উত্তেজনারই সর্বশেষ উদাহরণ।
যুদ্ধের ব্যাপকতা ও বৈশ্বিক প্রভাব
মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই অবস্থা বিশ্ব অর্থনীতিকে ক্রমশ বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও তিনি যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী এবং সামরিক পদক্ষেপ বর্তমানে তার অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।
দুবাই কর্তৃপক্ষ ও কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন যৌথভাবে জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং সম্ভাব্য তেল ছড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।



