ইরানের উপর ট্রাম্পের কঠোর আল্টিমেটাম: ১০ দিনের মধ্যে চুক্তি বা ধ্বংসের হুমকি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মাত্র ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, যা আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে কোনও সমঝোতা না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ এবং কৌশলগত খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সোমবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এই কঠোর বার্তাটি দেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আলোচনার অগ্রগতি ও গোপন শর্ত
সংবাদ সম্মেলনে লেভিট দাবি করেন যে, যদিও ইরান প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য রাখছে, পর্দার আড়ালে আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান গোপনে কিছু মার্কিন শর্তে রাজি হয়েছে এবং তাদের অবশিষ্ট নেতৃত্ব আলোচনার জন্য ক্রমশ আগ্রহী হয়ে উঠছে। এছাড়াও, আলোচনার একটি ইতিবাচক ফলাফল হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। লেভিট বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ২০টি ট্যাঙ্কার এই প্রণালি দিয়ে পার হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে ইরান যদি এই যাতায়াতের উপর কোনও শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা সমর্থন করবে না।
যুদ্ধের খরচ ও আঞ্চলিক মিত্রদের চাপ
হোয়াইট হাউস ইরান যুদ্ধের ব্যয়ভার বহনে আঞ্চলিক মিত্রদের, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর উপর চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। লেভিট জানান যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে মিত্রদের সাথে ফোন করতে আগ্রহী এবং একটি পরিকল্পনা রয়েছে যাতে উপসাগরীয় মিত্ররা এই যুদ্ধের খরচ মেটাতে এগিয়ে আসে। তিনি বলেন, এই বিষয়ে সামনে আরও বিস্তারিত জানা যাবে, যা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারি ও সামরিক প্রস্তুতি
নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন যে তেহরানের একটি অপেক্ষাকৃত যুক্তিবাদী অংশের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু চুক্তি না হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি শিগগিরই চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপ উড়িয়ে দেবে, এমনকি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোও ধ্বংস করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ১১ হাজারেরও বেশি কমব্যাট ফ্লাইট পরিচালনা করেছে মার্কিন বাহিনী, যা ইরানের নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সামরিক চাপ আরও বাড়াতে ওই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। গত ২৭-২৮ মার্চ ৩ হাজার ৫০০ নৌসেনাসহ যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ত্রিপোলি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, এবং ইউএসএস বক্সার-এ চড়ে আরও হাজারো সেনা পশ্চিম উপকূল থেকে রওয়ানা হয়েছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের ২ থেকে ৪ হাজার প্যারাট্রুপারকেও দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।



