সিরিয়া-ইরাক সীমান্তে বৃহৎ ড্রোন হামলা, সেনাবাহিনী সতর্ক
সোমবার ভোরে সিরিয়ার সেনাবাহিনী ইরাক সীমান্তের কয়েকটি সেনা ঘাঁটিতে বৃহৎ ড্রোন হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা বলে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "ভোরের দিকে ইরাক সীমান্তের কয়েকটি সেনা ঘাঁটিতে অসংখ্য ড্রোন দিয়ে বড় আকারের হামলা চালানো হয়েছে"।
ড্রোন হামলা প্রতিহত ও প্রতিক্রিয়া
সিরিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে বেশিরভাগ ড্রোনই তারা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে হামলার পর সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সেনা সূত্র জানিয়েছে, "আমরা আমাদের বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছি এবং সিরিয়ার ভূখণ্ডে যে কোনো হুমকি নিষ্ক্রিয় করতে ও আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে উপযুক্তভাবে সাড়া দেব"।
গত কয়েকদিনের হামলার ধারাবাহিকতা
এই হামলার আগের দিন রোববার সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলের সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিপান হামো জানিয়েছিলেন যে ইরাক থেকে চারটি ড্রোন সিরিয়ার কাসরাক এলাকায় একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল, তবে সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে। গত শনিবারও সিরিয়ার সেনাবাহিনী ইরাক থেকে আরেকটি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে, যা আল-তানফ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল। এই ঘাঁটিতে আগে মার্কিন বাহিনী অবস্থান করত।
গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরেকটি ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। একটি ইরাকি গোষ্ঠীকে সেই হামলার জন্য দায়ী করা হয়েছিল এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে ইরাকি একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত কয়েক মাসে সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনী আল-তানফ ঘাঁটি ছাড়াও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকেহ প্রদেশের শাদাদি ঘাঁটি থেকে সরে এসেছে। এছাড়া হাসাকেহ প্রদেশের কাসরাক ঘাঁটি থেকেও তাদের প্রত্যাহার শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর ইরানে হামলার মাধ্যমে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেছেন যে তিনি তার দেশকে যেকোনো সংঘাতের বাইরে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে ইরাক এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থক ইরাকি গোষ্ঠীগুলো ইরাক ও পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে হামলার দায় স্বীকার করেছে।
ইরাকের দায়িত্ব চাপালো সিরিয়া
সিরিয়ার সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিপান হামো ইরাকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, "আমরা ইরাককে দায়ী করছি এবং আমাদের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে এমন হামলার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ইরাককে আহ্বান জানাচ্ছি"।
এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইরাকের ইরান-সমর্থক গোষ্ঠীগুলোকে এই হামলার পেছনে থাকার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হচ্ছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী এখন হামলার তদন্ত চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতের যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।



