মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের তেলশিল্প নিয়ন্ত্রণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন, যেখানে তিনি ইরানে তাঁর ‘অগ্রাধিকার হবে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’ বলে উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইতিমধ্যে জোরদার করা হয়েছে, পেন্টাগন ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। গত শুক্রবার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা অঞ্চলটিতে পৌঁছেছেন, যার মধ্যে ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা রয়েছেন এবং আরও ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা পথে রয়েছেন। ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের হাজারো সেনাকেও অঞ্চলটিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা
ট্রাম্প ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন, যা ইরানের মোট তেল রপ্তানির সিংহভাগের উৎস। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা খারগ দ্বীপ দখল করব, হয়তো করব না। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে।’ তবে, খারগ দ্বীপে হামলা চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে এবং যুদ্ধের খরচ ও সময়সীমা দীর্ঘ হতে পারে।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। মাত্র এক মাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা এই সংঘাত শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চের কাছাকাছি।
সাম্প্রতিক হামলা ও উত্তেজনা
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত শুক্রবার সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন এবং ২৭০ মিলিয়ন ডলারের একটি মার্কিন ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যা নতুন মাত্রার উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের আলোচনা ও হুমকি
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানি ‘প্রতিনিধিদের’ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। তিনি ইরানকে একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি খাতে হামলা করবে বলে হুমকি দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি ও তেল ট্যাংকার
হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়, তা আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে শিগগিরই কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হতে পারে কি না, এ বিষয়ে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু বলেননি। তবে তিনি দাবি করেন, ইরান পাকিস্তানের পতাকাবাহী ২০টি তেল ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যদিও এ দাবি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে দাবি
ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে এবং পরবর্তী হামলাগুলোতে ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ায় দেশটিতে ইতিমধ্যে শাসকের পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি আরও দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি হয় মারা গেছেন অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় আছেন, যদিও তেহরান জোর দিয়ে বলে আসছে যে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।



