তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ: ইস্তাম্বুলে হাজার হাজার মানুষের প্রতিবাদ
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে মধ্য ইস্তাম্বুলে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান যুদ্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ধর্মীয় রক্ষণশীল এনজিও আয়োজিত এ সমাবেশে ‘প্রতিরোধ গড়ো, গাজা জিতবে’ এবং ‘মুসলমানরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না’ এর মতো স্লোগান দেওয়া হয়।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘খুনি ইসরাইল, খুনি যুক্তরাষ্ট্র’ লেখা প্ল্যাকার্ড এবং আল-আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদী পোস্টার দেখা যায়। সমাবেশটি ইস্তাম্বুলের কেন্দ্রীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বৃষ্টির মধ্যেও দৃঢ়ভাবে তাদের অবস্থান জানান দেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য
বিক্ষোভকারী মেহমেত ইলমাজ বলেন, ‘আমরা বিশ্বের সমস্ত নিপীড়িত মানুষের জন্য এখানে এসেছি: লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিন। গতকাল এটি ছিল ভেনেজুয়েলা, আগামীকাল সম্ভবত কিউবা হবে। আমরা তাদের সবার পাশেই আছি।’
আরেক বিক্ষোভকারী একরাম সায়লান বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ইরান যখন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তখন আয়রন ডোম দিয়ে কেউ তাদের ক্ষতি করতে পারবে না—এমন দাবি করা সত্ত্বেও সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গে তারা [ইসরাইলিরা] ইঁদুরের মতো গর্তে ঢুকে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানিরা কী করে? তারা রাস্তায় নেমে আসে। এটি বিশ্বাস ও ইমানের বিষয়। তাদের [ইসরাইলিদের] যদি বিশ্বাস থাকত, তবে তারা মৃত্যুকে ভয় পেত না।’
সমাবেশের প্রেক্ষাপট
এই বিক্ষোভটি ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত হয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে বিতর্ক চলছে। তুরস্কের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলি এই ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যা দেশটির বৈদেশিক নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি, আঞ্চলিক শান্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলে ধরেন। এই ঘটনা তুরস্কের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন।
সূত্র: আল জাজিরা।



