ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপে ব্যাপক বিক্ষোভ
ইরান যুদ্ধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নানা শহরে 'নো কিংস' ব্যানারে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেন্ট পল থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক, এমনকি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত আইডাহো অঙ্গরাজ্যেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
মিনেসোটায় ব্রুস স্প্রিংস্টিনের পরিবেশনায় সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনেসোটা, যেখানে ক্যাপিটল হিল চত্বরে আয়োজিত সমাবেশে মূল আকর্ষণ ছিলেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন। কেন্দ্রীয় অভিবাসন এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের গুলিতে রেনি গুড ও অ্যালক্স প্রেত্তির নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে লেখা তার 'স্ট্রিটস অব মিনিয়াপলিস' গানটি তিনি সেখানে পরিবেশন করেন। স্প্রিংস্টিন বলেন, 'আপনাদের এই লড়াই প্রমাণ করে এটি এখনও সেই আমেরিকাই আছে। এই দুঃস্বপ্ন এবং মার্কিন শহরগুলোতে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের আগ্রাসন বরদাশত করা হবে না।'
সমাবেশে আরও অংশ নেন প্রবীণ সংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ, অভিনেত্রী জেন ফন্ডা এবং সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো এক ভিডিও বার্তায় মিনেসোটাবাসীকে অভিনন্দন জানান। আয়োজকদের দাবি, এবারের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর আগে জুন মাসে ৫০ লাখ এবং অক্টোবর মাসে ৭০ লাখ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ৩ হাজার ১০০টি স্থানে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষোভের দাবি ও ঘটনাপ্রবাহ
বিক্ষোভকারীদের দাবির তালিকায় ছিল ইরান যুদ্ধ বন্ধ, অভিবাসীদের ওপর দমন-পীড়ন রোধ এবং ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার রক্ষা। ওয়াশিংটনে বিক্ষোভকারীরা 'পুড ডাউন দ্য ক্রাউন, ক্লাউন' (মুকুট নামাও, ভাঁড়) লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন। সিয়াটল থেকে আসা একদল বিক্ষোভকারী 'আইসিই'-এর আদলে 'লাইস' লেখা জ্যাকেট পরে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ জানান। ক্যানসাসের টোপেকায় ব্যাঙের পোশাক ও ট্রাম্পের শিশু সংস্করণের সাজে প্রতিবাদ করতে দেখা যায় অনেককে।
অধিকাংশ স্থানে প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ হলেও লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি আটককেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। ডেনভারে রাস্তা অবরোধ করায় অন্তত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে সান ডিয়েগোতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মার্চ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ
এই বিক্ষোভকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় হোয়াইট হাউস ও রিপাবলিকান শিবির। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে বলেন, এটি 'বামপন্থি অর্থায়নপুষ্ট' একটি আয়োজন, যার সঙ্গে জনসমর্থনের সম্পর্ক নেই। ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির মুখপাত্র মরিন ও’টুল একে 'উগ্র বামপন্থিদের উগ্র ফ্যান্টাসি' বলে অভিহিত করেছেন।
আন্দোলন কেবল যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি। লন্ডনে 'বর্ণবাদ রুখে দাঁড়াও' স্লোগানে মিছিল হয়েছে। প্যারিসের বাস্তিল দুর্গের সামনে জড়ো হয়ে কয়েক শ মানুষ ট্রাম্পের 'অন্তহীন যুদ্ধের' প্রতিবাদ জানান। ইতালির রোমে হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ইন্ডিভিজিবল নামক সংগঠনের কো-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এজরা লেভিন জানান, বিশ্বের এক ডজনেরও বেশি দেশে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।



