মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বৃদ্ধি, ট্রাম্পের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা বৃদ্ধি, ট্রাম্পের স্থল অভিযান

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বৃদ্ধি, ট্রাম্পের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল হলো, যদি তেহরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব না হয়, তবে সামরিক শক্তির মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত আঘাত হানা। এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সামরিক প্রস্তুতি ও স্থল অভিযানের সম্ভাবনা

এশিয়া থেকে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনা উভচর জাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এছাড়া ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ২,০০০ প্যারাট্রুপার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যারা মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে আকাশপথে অবতরণ করে শত্রুঘাঁটি বা বিমানবন্দর দখল করতে সক্ষম। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার (২৭ মার্চ) আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে বড় ধরনের স্থল যুদ্ধ ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী সপ্তাহে মেরিন সেনারা তাদের অবস্থানে পৌঁছালে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে স্থল অভিযানের নির্দেশ দিতে পারেন। ভারী সাঁজোয়া ইউনিটের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে হোয়াইট হাউসের পক্ষে সংঘাতকে খুব বেশিদূর টেনে নেওয়া কঠিন হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিধ্বংসী অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন লক্ষ্যবস্তু ও ঝুঁকি

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের খারগ দ্বীপ, যেখান দিয়ে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এই দ্বীপটি দখল বা ধ্বংস করা হলে তেহরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে। ট্রাম্প আশির দশক থেকেই এই দ্বীপে হামলার কথা বলে আসছেন। তবে এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ ড্রোন ও রকেট হামলার মুখে উভচর অবতরণ মার্কিন সেনাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কিশমি বা লারাক দ্বীপের মতো কৌশলগত পয়েন্টগুলোও মার্কিন নিশানায় রয়েছে, যা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর নিখোঁজ হওয়া ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করাও মার্কিন সেনাদের অন্যতম প্রধান মিশন হতে পারে। মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই বিপজ্জনক উপাদান উদ্ধারে বিশেষ বাহিনী পাঠানো হতে পারে।

উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ম্যাক্স বুটের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন সেনাদের হতাহতের বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন, যা একটি বড় মাপের স্থল অভিযানের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। আপাতত ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার হুমকি আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন। যদি এর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না আসে, তবে অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ শুরু করতে পারে।

এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধান ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।