ত্রিমুখী হামলায় ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে
ত্রিমুখী হামলায় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যয়

ত্রিমুখী হামলায় ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে

ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এক মাস পূর্ণ হওয়ার পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগদানের ফলে ইসরাইল এখন তিনটি দিক থেকে সমন্বিত হামলার মুখোমুখি। এই ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে এবং হামলা ঠেকাতে রীতিমতো বেকায়দা অবস্থায় রয়েছে।

নেতানিয়াহুর দাবি ও বিরোধী দলের সমালোচনা

পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসরাইলি নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হতে পারে যে দেশটি যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন যে ইসরাইল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরান ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। তিনি হুমকি দিয়েছেন যে সামনে আরও বড় আঘাত আসবে।

তবে ইসরাইলের বিরোধী দলগুলো এই সুযোগ হাতছাড়া করছে না। তারা নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করে বলছে, তার কাছে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করছেন, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ ও রেশনিং

যুদ্ধ শুরুর এক মাস পার হলেও ইসরাইল এখনো ইরানি হামলার হুমকির মুখে রয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি হুথিদের যোগদানে তৃতীয় একটি ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। এই বহুমুখী হুমকি মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরাইলকে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে বাধ্য করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, ক্রমাগত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরাইলের ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত বিপজ্জনক হারে কমে আসছে। সামরিক বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের দিক থেকে ধেয়ে আসা শত শত ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরাইলকে তাদের সবচেয়ে উন্নত ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সিস্টেম ব্যবহার করতে হচ্ছে।

একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের পেছনে খরচ হয় কয়েক লাখ ডলার। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচ হওয়ায় ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

কৌশলগত পরিবর্তন ও মার্কিন সহায়তা

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ায় ইসরাইল এখন রেশনিং পদ্ধতি ব্যবহার করছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখন বেছে বেছে কেবল সেই সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করছে, যেগুলো সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব ক্ষেপণাস্ত্র মরুভূমি বা জনশূন্য স্থানে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস না করে ইন্টারসেপ্টর সাশ্রয় করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসরাইল এখন ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরাইলে মোতায়েন এবং অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, একই সঙ্গে ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা মেটানো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতের ওপরও চাপ তৈরি করছে।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ফাটল ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় দেখা গেছে, ইরানি ড্রোন ও মিসাইল মাঝে মাঝেই ইসরাইলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এর প্রধান কারণ হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অত্যধিক চাপ এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের স্বল্পতা। ইসরাইলের বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মজুত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। কিন্তু কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশের সংকটে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক সপ্তাহ চলে, তাহলে ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল