ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বিতীয় দফা হামলা, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি একটি বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। শনিবার ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হুথিরা এই দ্বিতীয় দফা আক্রমণ পরিচালনা করে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
হুথিদের হুঁশিয়ারি ও হামলার উদ্দেশ্য
ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের আগ্রাসন ও হামলা বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আগামী দিনগুলোতেও হুথিদের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।' হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। লেবানন, ইরান ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে হামলা হওয়ার বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হুথিদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আমরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি। ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে অন্য কেউ যোগ দেয়, তবে আমাদের আঙুল সবসময় বন্দুকের ট্রিগারে রয়েছে।' এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং হুথিদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।



