ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ আন্দোলন: যুক্তরাষ্ট্রে সব রেকর্ড ভেঙে দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে
‘নো কিংস’ আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রে সব রেকর্ড ভাঙছে

ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ আন্দোলন: যুক্তরাষ্ট্রে সব রেকর্ড ভেঙে দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে

২৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেছে। ‘নো কিংস’ নামক ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনের তৃতীয় বড় কর্মসূচিতে দেশটির সব ৫০টি অঙ্গরাজ্যে ৩ হাজার ৩০০-এরও বেশি সমাবেশে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। এই আন্দোলনটি আগের দুই বারের চেয়ে ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছে, শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর ও রক্ষণশীল এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে।

আন্দোলনের মূল বিষয় ও বহুমুখী ক্ষোভ

আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক মূল বিষয় ছিল নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার। তবে প্রতিটি বিক্ষোভকারীর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। সবার কাছে ‘নো কিংস’-এর অর্থ আলাদা। ইরানে নতুন যুদ্ধ, চড়া দাম, অভিবাসন দমন, গর্ভপাত অধিকার কমানোর মতো ইস্যুগুলো মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।

আপস্টেট নিউ ইয়র্কের একটি রিপাবলিকান এলাকায় ১৪ মাস বয়সী মেয়েকে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিক্ষোভে আসা ৩৭ বছরের ক্যাইটলিন পিস বলেছেন, ‘সব কিছু মিলিয়েই এখানে এসেছি।’ তার হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিস্থিতি কতোটা খারাপ হলে ইন্ট্রোভার্টরাও রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়!’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিনেসোটায় ইতিহাসের বৃহত্তম সমাবেশ

মিনেসোটায় সবচেয়ে বড় সমাবেশটি হয়েছে, যা আয়োজকদের মতে রাজ্যের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিক্ষোভ। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সমাবেশে বলেছেন, ‘যখন গণতন্ত্র ঝুঁকিতে পড়েছিল, তখন মিনেসোটা বলেছিল — আমরা বেঁচে থাকতে এটা হতে পারে না।’ বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন মঞ্চে গান পরিবেশন করেন, জানুয়ারিতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেত্তির স্মরণে একটি গান গেয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠস্বর

একজন সাবেক রিপাবলিকান ভোটার ৫৯ বছরের ড্যান শেশনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমরা আবারও মধ্যপ্রাচ্যে আটকে যাব, বের হওয়ার পথ নেই।’ যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর সাবেক সদস্য ৫৭ বছরের মার্শা লুজিয়ার কাঁদো কাঁদো গলায় বলেছেন, ‘আমাদের মানুষ এমন একটা যুদ্ধের জন্য সেখানে আছেন, যেখানে যাওয়াই উচিত ছিল না।’

লস অ্যাঞ্জেলেসে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয়েছে। ইকুয়েডরে জন্ম নেওয়া মার্কিন সেনা ভেটেরান ৬২ বছরের জন মেনা বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমাকে আন্দোলনকারী বানিয়েছেন।’ সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অর্থনীতির কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘দ্রব্যমূল্য। হে ঈশ্বর! ইরান যুদ্ধের কারণে এখন আরও বেশি।’

আন্তর্জাতিক প্রভাব ও রেকর্ড ভাঙার আশা

গত অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যা গিনেস বুক অফ রেকর্ডস অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ আন্দোলন ছিল। এবারের সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন। এই বিক্ষোভ কমপক্ষে ১৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, রোম, প্যারিস, মাদ্রিদ, আমস্টারডাম, সিডনি ও টোকিওতে সমান্তরাল কর্মসূচি হয়েছে। সব মিলিয়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলন দাবানলের মতো করে ছড়িয়ে পড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে।