মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে যোগ দিল হুতি, ইসরায়েলের জন্য নতুন সংকট
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে যোগ দিল হুতি, ইসরায়েলের জন্য সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে যোগ দিল হুতি, ইসরায়েলের জন্য নতুন সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে এবার সরাসরি অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। গতকাল শনিবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তারা যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করেছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে হুতির যোগদান ইসরায়েলের জন্য বাড়তি সামরিক চাপ সৃষ্টি করছে, পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বাড়ানোর হুমকি তৈরি করেছে।

হুতির হামলা ও ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া

হুতির সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাশাপাশি অন্য কেউ অংশ নেয়, তবে তাদের আঙুল বন্দুকের ট্রিগারে রয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী, যার দায় স্বীকার করেছে হুতি গোষ্ঠী। তারা দাবি করেছে, দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা লেবানন, ইরান ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের হামলার প্রত্যুত্তর।

বিগত বছরগুলোতেও ইসরায়েল লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে, বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন চলাকালে। তখন ইয়েমেন সীমান্ত থেকে বহুদূরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল তারা, যার ফলে আরব উপদ্বীপ ও লোহিত সাগরে পণ্য ও জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল বড় বাধার মুখে পড়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি বাজারে হুমকি ও কূটনৈতিক তৎপরতা

হুতিরা যদি লোহিত সাগর ও বাব আল–মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যা জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, হুতিরা এই কৌশল নিলে সুয়েজ খাল পর্যন্ত জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, এবং চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে দুই দেশের সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ইসরায়েল অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে; গতকালও তারা ইরান ও লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যার লক্ষ্যবস্তুতে ছিল ইরানের পরমাণু স্থাপনা।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, হুতির যুদ্ধে যোগদান ইসরায়েলের জন্য সংকটের কারণ হবে। ইরান ও হিজবুল্লাহর পাশাপাশি হুতিরাও যদি নিয়মিত হামলা চালায়, তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ইসরায়েল রাজনৈতিকভাবে হুতির হামলাকে স্বাগত জানাতে পারে, কারণ যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তাদের লক্ষ্য পূরণের সুযোগ বাড়বে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও ইসরায়েলের অনমনীয়তা অব্যাহত রয়েছে। গত এক মাসে ইরানে ১ হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ৯৩ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইরান সরকার দাবি করেছে। এদিকে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

যুদ্ধ থেকে শিগগিরই বেরিয়ে আসার কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, কিন্তু তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে ইরানের সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিছু সময় ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ কমে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা, এবং পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।