মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে নিয়োজিত বৃহত্তম বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্রোয়েশিয়ার স্প্লিট বন্দরে
বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের পর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ক্রোয়েশিয়ার স্প্লিট শহরের বন্দরে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন কিভাবে বিশালাকার এই জাহাজটি স্প্লিট বন্দরে নিরাপদে নোঙর করেছে।
নির্ধারিত সফর ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া
ক্রোয়েশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের এই সফর একটি পূর্বনির্ধারিত ও পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার অংশ। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই গ্রিসের ক্রিট নৌঘাঁটি থেকে জাহাজটি স্প্লিটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। উল্লেখ্য, এর আগে রণতরিটির লন্ড্রিতে একটি অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে দুই ক্রু সদস্য আহত হন। সেই ঘটনার পর জাহাজটিকে সাময়িকভাবে নিরাপত্তা ও মেরামতের জন্য ক্রিট ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
মার্কিন-ক্রোয়েশিয়ান কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতিফলন
মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সফর চলাকালীন ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড স্থানীয় কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের জন্য বিশেষ আতিথেয়তা প্রদান করবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতার গভীর বন্ধন প্রতিফলিত হবে। এটি কেবল সামরিক সহযোগিতা নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কেরও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজটির ভূমিকা ও সামরিক তৎপরতা
ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সামরিক সমাবেশের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান অভিমুখে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। সেই সময় ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নামের দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি মোতায়েন করা হয়েছিল। উভয় জাহাজেই কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান নিয়ে গঠিত এয়ার উইং অবস্থান করছিল, যা ইরান অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। এই অভিযানে জাহাজগুলোর উপস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের স্প্লিট বন্দরে আগমন কেবল একটি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সামরিক কূটনীতির একটি সক্রিয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ক্রোয়েশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও মার্কিন সামরিক উপস্থিতির একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।



