ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো
ইয়েমেনের ইরানপন্থি হুথি বিদ্রোহীরা শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরায়েলে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলা ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গোষ্ঠীটির প্রথম সরাসরি অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। হামলার পর ইসরায়েলের বির শেবা ও এর আশপাশের এলাকায় সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এই ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে, যেখানে হুথিরা একটি বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে।
হুথিদের দাবি ও ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া
হুথি বিদ্রোহীরা তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, একঝাঁক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েলের 'সংবেদনশীল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে' আঘাত হানা হয়েছে। তারা দাবি করে যে, এই হামলা ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সমর্থন এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষার জন্য পরিচালিত হয়েছে। তবে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) একটি বিপরীত বক্তব্য দিয়ে জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা হুথিদের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
হুথি মুখপাত্রের পূর্ববর্তী হুঁশিয়ারি
এই হামলার আগে, শুক্রবার রাতে এক টেলিভিশন ভাষণে হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি একটি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যদি অন্য কোনও দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় অথবা লোহিত সাগর ব্যবহার করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ওপর হামলা চালানো হয়, তবে তারা সামরিক হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ইয়াহিয়া সারি আরও যোগ করেন, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন-ইসরায়েল জোটে নতুন কেউ যোগ দিলে তাদের আঙুল ট্রিগারেই থাকবে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি
হুথিদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। লোহিত সাগরের কৌশলগত অবস্থানে থাকায় এবং দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা থাকায় হুথিরা বৈশ্বিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ক্ষমতা রাখে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। লেবানন ও ইরাকের ইরানপন্থি শিয়া মিত্ররা ইতোমধ্যে এই যুদ্ধে যোগ দিলেও, হুথিরা এতদিন সরাসরি আক্রমণ থেকে বিরত ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা শুরু করেছিল তারা, কিন্তু ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর হুথিরা তাদের আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল।
বর্তমান দাবি ও সতর্কতা
বর্তমান পরিস্থিতিতে, হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অবিলম্বে ইরান, ফিলিস্তিন, লেবানন ও ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন এবং গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ইয়েমেনের ওপর নতুন কোনও অবরোধ আরোপ না করার বিষয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বৃদ্ধির একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে হুথিরা তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।



