ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে 'ধন্যবাদ ভারতের জনগণ' লেখা, সহানুভূতির প্রতীক
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে 'ধন্যবাদ ভারতের জনগণ' লেখা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে 'ধন্যবাদ ভারতের জনগণ' লেখা, সহানুভূতির প্রতীক হিসেবে

ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সময় একটি অনন্য বার্তা দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গায়ে নীল কালিতে লেখা রয়েছে 'ধন্যবাদ ভারতের জনগণ'। শুধু ভারত নয়, জার্মানি, স্পেন এবং পাকিস্তানের জনগণকেও একইভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম এবং মুম্বাইয়ের ইরানি কনস্যুলেট জেনারেল ভবন এই ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি প্রকাশ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিস্তারিত বিবরণ

শনিবার সকালে ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ৮৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলাগুলো ইসরায়েলের আশদোদ শহরের জ্বালানি তেলের ডিপো, মোদিন শহরের সামরিক স্থাপনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি ইনফরমেশন এক্সচেঞ্জ সেন্টারকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে নীল কালিতে ভারত, জার্মানি, স্পেন ও পাকিস্তানের জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে, যা ইরানের পক্ষ থেকে একটি সাংকেতিক বার্তা হিসেবে কাজ করছে।

সহানুভূতির কারণ ও ভারতের ভূমিকা

ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে এমন লেখার প্রধান কারণ হলো, এসব দেশের জনগণ ইরানের সাধারণ জনতার প্রতি সহানুভূতিশীল। বিশেষ করে, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে ভারত ইরানকে খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করছে। এছাড়া, ভারতের জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের বাসিন্দারা ইরানের জনগণের জন্য গণচাঁদা তুলে ইরানের দূতাবাসে জমা দিয়েছেন। অনেক নারী তাদের স্বর্ণালঙ্কারও ইরানের জনগণকে দান করেছেন, যা ইরানের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও কৃতজ্ঞতা

ভারতের ইরানি দূতাবাস এই দানগুলো কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "ভারতীয় জনগণের এই আন্তরিক সহায়তা ইরান কখনও ভুলবে না।" এই ঘটনা ইরান ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে মানবিক সহায়তা রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।