ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০ এরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
মার্কিন সেনাদের আহত ও নিহতের বিস্তারিত বিবরণ
মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্সের বক্তব্য অনুসারে, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৩০৩ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এই আহতদের মধ্যে বেশিরভাগের আঘাতই সামান্য মাত্রার, এবং ইতোমধ্যেই ২৭৩ জন সেনা তাদের দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, বর্তমানে ১০ জন সেনা গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে আরও ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং ৬ জন ইরাকে প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানের সামরিক বাহিনীর হুমকি ও হতাহতের সংখ্যা
অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী শুক্রবার এক পৃথক ঘোষণায় জানিয়েছে, যেসব হোটেলে মার্কিন সেনারা অবস্থান নেবে, সেগুলোও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফাজল শেখারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘যখন সব মার্কিন সেনা একটি হোটেলে থাকে, তখন আমাদের দৃষ্টিতে সেটি মার্কিন ঘাঁটিতে পরিণত হয়।’
এদিকে, ইরান সরকার এখনো তাদের হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি কর্মী গোষ্ঠী ২৩ মার্চ জানিয়েছে, যুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ১৬৭ জন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ৬৫৮ জনের অবস্থান এখনো অজানা।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই সংঘাতের পটভূমিতে তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। মার্কিন সেনাদের হতাহতের এই সংখ্যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশাপাশি ইরানি সেনাদের পরিবারগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। এই সংঘাতের সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানানো হচ্ছে বিশ্বব্যাপী।



