ন্যাটোর প্রতি হতাশ ট্রাম্প, ভবিষ্যতে সহযোগিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ
ন্যাটোর প্রতি হতাশ ট্রাম্প, সহযোগিতা নিয়ে সংশয়

ন্যাটোর প্রতি হতাশা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের প্রতি তার তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি সুরক্ষিত করতে সামরিক বাহিনী পাঠাতে ন্যাটো দেশগুলোর অস্বীকৃতির বিষয়ে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতে অনুরোধ করা হলেও ওয়াশিংটন ন্যাটোর পাশে নাও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

মিয়ামি বিনিয়োগ ফোরামে ট্রাম্পের মন্তব্য

শুক্রবার (২৭ মার্চ) মিয়ামিতে একটি বিনিয়োগ ফোরামে ট্রাম্প বলেন, 'তারা তো ছিলই না। আমরা প্রতি বছর ন্যাটোর জন্য শতশত বিলিয়ন ডলার খরচ করি, তাদের রক্ষা করি এবং আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকতাম। কিন্তু এখন, তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মনে হয় আমাদের থাকার দরকার নেই, তাই না?'

তিনি আরও যোগ করেন, 'তারা যদি আমাদের পাশে না থাকে, তাহলে আমরা কেন তাদের পাশে থাকব? তারা তো আমাদের পাশে ছিলই না।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প ন্যাটোর প্রতি মার্কিন সমর্থন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হরমুজ প্রণালি ইস্যু ও পশ্চিমা মিত্রদের ভূমিকা

এক মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে, ট্রাম্প পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থনের অভাব এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে বাহিনী পাঠাতে অনীহা নিয়ে বারবার হতাশা প্রকাশ করেছেন। হরমুজ প্রণালি হলো উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ, যা ইরানের আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই জলপথ দিয়ে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং জাপানসহ ছয়টি প্রধান দেশ জানিয়েছে যে তারা 'উপযুক্ত উদ্যোগে অবদান রাখতে' প্রস্তুত, কিন্তু এখনো কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ন্যাটোর প্রতি ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা

ট্রাম্প ন্যাটোর সবচেয়ে কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে তিনি ন্যাটোর অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে 'কাওয়ার্ড' বা কাপুরুষ বলে অভিহিত করেন এবং ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া এই জোট কেবল 'কাগুজে বাঘ'

গত বৃহস্পতিবার তিনি তার 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'ন্যাটোর কাছ থেকে কিছুই প্রয়োজন নেই।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ন্যাটো দেশগুলো এখন সামরিকভাবে বিধ্বস্ত উন্মাদ রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সাহায্য করার জন্য বিন্দুমাত্র কিছুই করেনি।'

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।