মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ছোবলে হাজারো প্রাণহানি, চিকিৎসাকর্মীদের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে হাজারো প্রাণহানি, চিকিৎসাকর্মীদের বেদনা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার ও মানবিক বিপর্যয়

গত বুধবার লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত এক চিকিৎসাকর্মীর মরদেহের পাশে শোক প্রকাশ করছিলেন তাঁর মা। এই দৃশ্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের করুণ প্রতিচ্ছবি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ, পাশাপাশি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলস্বরূপ হাজারো নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহতা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ এক মাস পূর্ণ করেছে, কিন্তু এর প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় অঞ্চলজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘের এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধিদলের প্রধান মারিয়া মার্টিনেজ একটি হৃদয়বিদারক তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন চিকিৎসাকর্মীরা। উদ্ধার তৎপরতা চালানোর সময় অনেক উদ্ধারকর্মী সেখানে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন, যা মানসিকভাবে তাদেরকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

বিভিন্ন দেশে নিহতের পরিসংখ্যান

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৯০০ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ২০ হাজার মানুষ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৪২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩১৫ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১২২টি শিশু এবং ৪২ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। ইরাকে সরকারি তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কুর্দিস্তানে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩ জন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, এবং দক্ষিণ লেবাননে আরও ৪ ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এবং ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’সেলেমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে অন্তত ৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজায় ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ২৬৭–এ দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে গত ১১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও অন্তত ৬৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন অভিবাসী শ্রমিক। এই শ্রমিকরা অত্যন্ত অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে, এবং ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজারো পরিবার পথে বসেছে। মানবিক সংকট দিন দিন গভীরতর হচ্ছে, এবং চিকিৎসাকর্মীদের মতো frontline workers-দের উপর এর প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ।