ইরান-রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা: গোয়েন্দা তথ্য ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ভূমিকা বিশ্লেষণ
ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতা থাকলেও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কোর সহায়তার প্রকৃতি ও পরিধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, রাশিয়া ইরানকে ‘সামান্য’ সহায়তা করছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও জটিল। পাল্টাপাল্টি হামলার এই সময়ে মস্কো মূলত গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট প্রযুক্তি দিয়ে তেহরানকে সাহায্য করছে বলে জানা গেছে।
সামরিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সামরিক সম্পর্ককে ‘ভালো’ বলে অভিহিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া তাদের একমাত্র কার্যকরী স্পাই স্যাটেলাইট সিস্টেম ‘লিয়ানা’র মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমান বাহিনীর অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ইরানকে সরবরাহ করছে। এছাড়া ২০২২ সালে রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপণ করা ইরানি স্যাটেলাইট ‘খৈয়াম’ এই যুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অস্ত্র আদান-প্রদান ও প্রযুক্তি সহায়তা
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্রের আদান-প্রদান আরও বেড়েছে। ইরান যেমন রাশিয়াকে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে সহায়তা করেছে, তেমনি রাশিয়াও ইরানের ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলোকে আধুনিকায়ন করে আরও প্রাণঘাতী করে তুলেছে। সম্প্রতি লেবানন থেকে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতে চালানো ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তৈরি ‘কোমেটা-বি’ নামক জ্যামিং-প্রতিরোধী নেভিগেশন মডিউল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ইরানকে সরাসরি যুদ্ধে জেতানোর চেয়ে এই সংঘাতকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করতেই বেশি আগ্রহী। ইউক্রেন যুদ্ধরত পুতিন সরকারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা তেলের দাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি চাঙা হচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সরাসরি জড়ানো এড়ানো
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্কো ও তেহরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। ফলে রাশিয়া সরাসরি এই যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী নয়। রাশিয়ার এই সহায়তাকে কেবল একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ নিদর্শন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তেহরানও বিষয়টি উপলব্ধি করে সরাসরি রণক্ষেত্রে জেতার চেয়ে আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরি এবং তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পশ্চিমা বিশ্বকে চাপে রাখার কৌশল বেছে নিয়েছে।



