ইরানের হুঁশিয়ারি: আমিরাতকে গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, যুদ্ধে সরাসরি জড়িত বলছে তেহরান
ইরানের হুঁশিয়ারি: আমিরাতকে গুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি

ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে এবং কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানিয়েছে, আমিরাত ইরান-বিরোধী যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কোনো স্থল অভিযান শুরু হলে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

আগ্রাসনে আমিরাতের ভূমিকা

ইরানের একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, তেহরানের নেতারা বিশ্বাস করেন যে ইউএই যুদ্ধের শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আমিরাত শুধু মার্কিন সামরিক স্থাপনা পরিচালনা করছে না, বরং নিজস্ব বিমানঘাঁটিও ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশনের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এছাড়া, আবুধাবি এ অঞ্চলে ইসরাইলি স্বার্থ রক্ষার একটি উন্নত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে, যার মধ্যে প্রতারণামূলক অভিযানও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এআই অবকাঠামো ও তথ্য বিশ্লেষণ

ওই কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, ইউএই-র ভেতরে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের জন্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইরানি ব্যক্তিত্ব ও স্থাপনার তথ্যও রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমিরাতের ভূখণ্ড থেকে ইরানি জাহাজ বা উপকূলীয় অঞ্চলে যেকোনো আক্রমণকে এখন তেহরান একটি বড় ধরনের উস্কানি হিসেবে গণ্য করবে, যার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আসন্ন স্থল অভিযানের আশঙ্কা

ইরানের একজন সিনিয়র কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানান, তেহরান বিশ্বাস করে একটি মার্কিন স্থল অভিযান এখন আসন্ন হতে পারে। রাশিয়াসহ ইরানের মিত্র দেশগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে করা গোয়েন্দা মূল্যায়ন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউএই থেকে এই হামলা চালানো হতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন, যদিও তিনি পরবর্তীতে দুবার এই হামলা পিছিয়ে দিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের প্রস্তুতি ও সময়ক্ষেপণ

কূটনীতিকের মতে, ইরান বর্তমান এই বিলম্বকে প্রকৃত কূটনৈতিক বিরতি হিসেবে দেখছে না। বরং, এটিকে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন এবং যুদ্ধের নতুন পর্যায়ের প্রস্তুতির জন্য একটি ছদ্মবেশ বা সময়ক্ষেপণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সৈন্য পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

ইরানের পাল্টা হামলা ও সংযম

যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের হোটেল, বিমানবন্দর, ডাটা সেন্টার, বন্দর এবং দূতাবাসগুলোতেও মিসাইল ও ড্রোন আঘাত হেনেছে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত যেসব দেশ থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, তাদের পুরোপুরি শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা থেকে সচেতনভাবে বিরত রয়েছে। তেহরান কেবল সরাসরি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তু বা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে হামলা সীমাবদ্ধ রেখেছে।

হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু

কূটনীতিক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই সংযম তৎক্ষণাৎ শেষ হয়ে যাবে যদি কোনো স্থল অভিযান শুরু হয় অথবা যদি ইরানের কোনো ভূখণ্ড বা দ্বীপ স্থল হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। তিনি বলেন, যে দেশ থেকে এই ধরনের হামলা চালানো হবে, ইরান অবিলম্বে সেই দেশকে শত্রু হিসেবে গণ্য করবে। তখন ইরানি হামলা কেবল সামরিক বা গোয়েন্দা স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্বার্থগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠবে। এর মধ্যে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ রয়েছে এমন বাণিজ্যিক ও স্থাবর সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিশ্ববাজারে প্রভাব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মনোভাব

এক মাস ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্ববাজারকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ইরান-বিরোধী মনোভাব বাড়ছে, কারণ ইরানের পাল্টা হামলায় সেসব দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমিরাত থেকে বিশেষভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লিখেছেন, কেবল একটি যুদ্ধবিরতিই যথেষ্ট হবে না; বরং যুদ্ধমান পক্ষগুলোর উচিত এমন একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাওয়া যা ইরানের সব ধরনের হুমকি নির্মূল করবে।

ইরানের বার্তা ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যুদ্ধের মাত্রা আরও বাড়লে আমিরাতসহ অন্যান্য দেশ কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে।