মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি চারটি ক্ষেপণাস্ত্র উপসাগরীয় জলসীমা অথবা জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

কুয়েতের বন্দরে হামলা

কুয়েতের প্রধান বাণিজ্যিক বন্দর শোয়াইখ লক্ষ্য করে শুক্রবার সকালে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় মালামালের কিছু ক্ষতি হয়েছে, তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বন্দরটির কার্যক্রম এখনও সীমিত আকারে চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সফল প্রতিরক্ষা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুক্রবার ইরান থেকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং নয়টি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এই সফলতা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি প্রদর্শন করেছে।

বাহরাইনের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ

বাহরাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে তারা মোট ১৫৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৬২টি ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। গতকাল এ তথ্য প্রকাশের পরও তারা আরও ১২টি ড্রোন হামলা মোকাবিলা করেছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ বহন করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইরানের পূর্ববর্তী সতর্কতা

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) আগেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মানুষকে সতর্ক করে দিয়েছিল। তারা বলেছিল, যেসব এলাকায় মার্কিন বাহিনী অবস্থান করছে, সেই অঞ্চল থেকে যেন নাগরিকরা সরে যান। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো অঞ্চলের নাম উল্লেখ করা হয়নি ওই হুঁশিয়ারিতে। এই সতর্কতা বর্তমান হামলার প্রেক্ষাপটে নতুন তাৎপর্য পেয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রয়েছে। হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করে চলেছে এবং হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।