ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দাবি করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আক্রমণাত্মক নীতিতে পরিবর্তন
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) গভীর রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখারচি বলেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত ১৭টি সামরিক ঘাঁটির সবকটিই ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েলের আরোপিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতিকে আক্রমণাত্মক নীতিতে পরিবর্তন করেছে বলে উল্লেখ করেন শেখারচি। তিনি বলেন, ‘গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন চালাবে না। ইরানের আক্রমণাত্মক নীতির অর্থ হলো, যদি কোনো দেশ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত করব যতক্ষণ না তা ধ্বংস হয় এবং আমরা তাদের ছেড়ে দেব না।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার অজুহাতে গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, যাতে অঞ্চলের জনগণকে শোষণ করা যায়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি করে এবং ওই দেশগুলোর অর্থায়নে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে, যা প্রতারণামূলক বলে তিনি মনে করেন।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেখারচি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো হবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, এবং দেশগুলোকে আমাদের শর্ত সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে।’
আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান
শেখারচি আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি মনে করে আমরা পিছিয়ে যাব, তবে তারা ভুল করছে। আমাদের সংকল্প আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী, এবং আমাদের লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, অঞ্চলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শেখারচি বলেন, ‘আমরা সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি এবং কারও ওপর আমাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চাই না। তবে যদি আপনারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য বিদেশি শক্তিকে নিজেদের ভূখণ্ড ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেন, তাহলে এর পরিণতি আপনাদেরই বহন করতে হবে।’
ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি, যাতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়। শেখারচি বলেন, ‘আমাদের সক্ষমতা প্রতিদিনই আরও শক্তিশালী হচ্ছে, এবং আমরা আমাদের সামরিক ব্যবস্থা ক্রমাগত উন্নত করছি।’



