হরমুজ প্রণালি খুলতে বহুজাতিক নৌ-টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানালো সংযুক্ত আরব আমিরাত
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে একটি বহুজাতিক নৌ-টাস্কফোর্স গঠনের জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তেহরানের অবরোধ ও পালটাপালটি হামলার প্রভাবে অঞ্চলটিতে চলমান উত্তেজনার মুখে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য। আবুধাবি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে জানিয়েছে যে তারা এই সম্মিলিত অভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে এবং প্রয়োজনে নিজস্ব নৌবাহিনী মোতায়েন করবে।
ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর পড়ছে। তেহরানের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় দেশটির অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে শুরু করেছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আমিরাত এবং বাহরাইন মিলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব আনার কাজ করছে, যাতে প্রস্তাবিত এই আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্সের একটি বৈধ ম্যান্ডেট বা আইনি ভিত্তি থাকে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চীন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এখন এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধ শেষ হলেও ইরান হয়তো হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং বেশ কিছু আরব রাষ্ট্র এখন প্রায় নিশ্চিত যে, নৌবাহিনীর পাহারায় জাহাজ পারাপার করানো ছাড়া এই প্রণালি সচল করার আর কোনো সহজ বিকল্প নেই। ফলে এই আন্তর্জাতিক টাস্কফোর্স গঠন করা এখন এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আমিরাতের পদক্ষেপটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ চলাচল করে, তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমিরাতের এই উদ্যোগের সাফল্য বা ব্যর্থতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।



