ইরানের কোমে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৬ জন নিহত, আবাসিক ভবন বিধ্বস্ত
ইরানের পবিত্র শহর কোমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর চালানো এক ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে চালানো এই হামলায় শহরের পারদিসান এলাকার তিনটি আবাসিক ভবন পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম জামারান নিশ্চিত করেছে।
হতাহতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা
কোমের উপ-গভর্নর মোর্তেজা হায়াদারি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জনবহুল আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই হামলার খবর নিশ্চিত করে একে আমেরিকান-জায়নিস্ট আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই ঘটনার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের তীব্রতা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
উরমিয়া ও অন্যান্য শহরেও হামলা
পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রধান হামিদ সাফারি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে জানিয়েছেন যে, উরমিয়া শহরেও যৌথ বাহিনীর হামলায় অন্তত চারটি বেসামরিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও বেশ কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তবে সঠিক সংখ্যা এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া নৌরনিউজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রাতে তেহরান, ইসফাহান, কাশান, ইয়াজদ, তাবরিজ ও আহভাজসহ ইরানের প্রায় সাতটি বড় শহরে একযোগে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। এই আক্রমণগুলো মূলত ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো হলেও আবাসিক এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মানবিক বিপর্যয় ও বৈশ্বিক প্রভাব
বর্তমান সংঘাতের ফলে ইরান ও লেবাননে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে এবং ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন কেবল নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং শহরগুলোর সাধারণ অবকাঠামোতেও এর আঁচ লাগছে।
সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাগ্বিতণ্ডা এই যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমার খবর পাওয়া গেলেও, অন্যদিকে ইরানের ভেতরে প্রকাশ্যে পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবি জোরালো হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আইআরজিসির প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি
বিশ্লেষকদের মতে, কোম এবং উরমিয়ার মতো শহরগুলোতে বেসামরিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় ইরান আন্তর্জাতিক মহলে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে এই হামলার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে লড়াই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তেহরান ও ইসফাহানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে রাতভর বোমাবর্ষণ মূলত ইরানকে আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করার একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।



