ইরানের হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় ১৩ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, ইরানের হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই প্রতিবেদনটি ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘাঁটি ধ্বংসের বিস্তারিত বিবরণ
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘাঁটিগুলোর মধ্যে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়াও, অন্যান্য দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ইরান একের পর এক হামলা চালিয়েছে:
- কাতারে আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তরের শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।
- বাহরাইনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিটের সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে।
- সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও ইরানের হামলা সংঘটিত হয়েছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও মার্কিন প্রতিক্রিয়া
ইরান পূর্বেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল যে, যদি তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সহযোগিতা করে, তবে তাদেরও রেহাই দেওয়া হবে না। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বারবার ইরানের এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছে।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ঘাঁটি ছেড়ে মার্কিন সেনারা এখন অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক মোতায়েন বৃদ্ধি
এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ায় আরও সেনা মোতায়েন করা জারি রেখেছে। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহ পর অঞ্চলটিতে মার্কিন উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে, বিমান হামলায় ইরানের ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বিভিন্ন স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র তিনটি প্রধান বাহিনী মোতায়েন করছে:
- ত্রিপোলি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ – প্রায় ২,২০০ মেরিন সদস্য যারা আকাশ ও সমুদ্রপথে দ্রুত অভিযান চালাতে সক্ষম।
- বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ – প্রায় একই সংখ্যক মেরিন ও নৌসদস্য রয়েছে।
- ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী – বিশ্বের যে কোনো স্থানে স্বল্প সময়ের মধ্যে মোতায়েনের সক্ষমতা রাখে।
এই বাহিনীগুলোতে অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার সেনা যুক্ত হয়েছে, যা মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সেনাঘাঁটিগুলো তৈরি করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের সাম্প্রতিক হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ঘাঁটিগুলোতে ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা আটকানোর মতো পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ছিল না।
মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই প্রতিবেদন সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।



