ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলা স্থগিত আরও ১০ দিনের জন্য
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা আরও ১০ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তিনি নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন। খবর সিএনএনের।
ট্রাম্পের পোস্টে ইরানের অনুরোধের দাবি
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমি তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার কার্যক্রম ১০ দিনের জন্য স্থগিত করছি—যা সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। আলোচনা চলছে এবং ফেক নিউজ মিডিয়া ও অন্যান্যদের বিপরীত দাবির পরও, সেগুলো খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে।”
তবে, ট্রাম্পের পোস্টে ইরানের অনুরোধের কথা জানালেও বিষয়টি নিয়ে রয়েছে ব্যাপক ধোঁয়াশা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরান থেকে এমন অনুরোধ করা হবে না, যা এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
হামলা স্থগিতের পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ
এর আগে, দুই দফায় ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা স্থগিতের কথা জানিয়েছিলেন:
- প্রথমবার গত ২১ মার্চ তিনি তেহরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য।
- দ্বিতীয়বার গত ২৩ মার্চ তিনি হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন, যার সময়সীমা শুক্রবার (২৭ মার্চ) শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এখন, নতুন করে ১০ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মার্কেট বন্ধ হওয়ার খানিক সময় বাদেই ঘোষিত হয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধোঁয়াশা বজায়
ট্রুথ সোশ্যালে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা নিয়ে খোলাসা করলেও, একই দিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিলেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সময়সীমা তিনি বজায় রাখবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বলে শুধু বলেছিলেন, ‘আমি জানি না’।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ইরানের সঙ্গে আলোচনা কতটুকু এগোচ্ছে, সেটির ওপর। তার দল আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তাকে কী তথ্য দিচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরানের আলোচনা অস্বীকার
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা জানানো হলেও, তেহরান তা অস্বীকার করে আসছে। এই পরিস্থিতিতে, হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন জ্বালানি অবকাঠামো ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা চলমান রয়েছে।



