ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া
চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তেহরানের এই জবাবের বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
জবাব পাঠানো ও শর্তাবলি
ওই সূত্র বলেছে, বুধবার রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তেহরান এখন ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসনে ইরান বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
- গুপ্তহত্যা ও আগ্রাসন বন্ধ: ইরান যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেই বিষয়ে নিশ্চয়তা চেয়েছে।
- ক্ষতিপূরণ দাবি: যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়েছে তেহরান।
- যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান: এই সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ওই অঞ্চলের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোসহ সব ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব
ইরানি ওই সূত্র বলেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে একটি ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং তা স্বীকার করে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তেহরান। এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পূর্বের দাবির সংযোগ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যেসব দাবি জানিয়েছিল, বর্তমান সব শর্তের সঙ্গে সেগুলোও যুক্ত হবে। এই পদক্ষেপ ইরানের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয়
তবে ইরানি ওই সূত্র যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছে, ইরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আহ্বান এক ধরনের ‘প্রতারণা’, যার পেছনে একাধিক লক্ষ্য রয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরা: এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে।
- বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম রাখা: যুদ্ধের প্রভাব কমিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা।
- দক্ষিণ ইরানে স্থল অভিযানের জন্য সময়ক্ষেপণ: সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।
এই সংশয়ের পটভূমিতে ইরানের জবাবটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখছেন, যা ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনার গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।



