ট্রাম্পের জরুরি লক্ষ্য: ইরান সংঘাত ৪-৬ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে চান বলে দাবি করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। সংবাদমাধ্যমটির একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়িয়ে দ্রুত সমাধান চান।
সংঘাত 'শেষ পর্যায়ে' এবং সময়সীমা নির্ধারণ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করছেন যে বর্তমান সংঘাত 'শেষ পর্যায়ে' রয়েছে। তিনি চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রতি এই সময়সীমা অনুযায়ী কাজ করার জন্য জোরালো নির্দেশও দিয়েছেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্পের যুক্তি হলো, ইরান সংঘাত তার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো যেমন:
- দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি
- অর্থনৈতিক চাপ
- প্রশাসনের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ
এই বিষয়গুলো নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চীন সফরের প্রস্তুতি এবং সংঘাত নিরসনের চেষ্টা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগেই ইরান সংঘাত নিরসনের চেষ্টা তীব্রতর হবে। ট্রাম্প প্রশাসন চীন সফরকে একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইলে, ইরান ইস্যুটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত সামরিক হামলা, হতাহতের ঘটনা এবং সংঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন ও ইরান উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন বিবৃতি দিচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সময়সীমা নির্ধারণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্যে হতে পারে। এটি মার্কিন জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় নিলে, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ সমাধান একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।



