ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে মুখ খুলল হুথিরা, যুদ্ধে যোগদানের প্রস্তুতি ঘোষণা
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের ২৭তম দিনে ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধা গোষ্ঠী হুথিরা প্রথমবারের মতো এই সংঘাত নিয়ে তাদের অবস্থান প্রকাশ করেছে। ইরান সমর্থিত এই বাহিনী দীর্ঘদিন যুদ্ধ নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, বিভিন্ন মহলে ধারণা ছিল যে তারা যেকোনো মুহূর্তে তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিতে পারে।
হুথি নেতার বক্তব্য: সামরিক প্রস্তুতির ঘোষণা
একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন হুথি নেতা রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে বলেছেন, 'আমরা সব ধরনের বিকল্প নিয়ে সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'চূড়ান্ত মুহূর্ত (জিরো আওয়ার) নির্ধারণ সংক্রান্ত অন্যান্য বিশদ বিবরণ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং পদক্ষেপ নেওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি তা আমরা জানতে পারব।'
ইরানের সাফল্য ও হুথির মূল্যায়ন
হুথি নেতার মতে, 'এখন পর্যন্ত ইরান বেশ ভালো করছে এবং প্রতিদিন শত্রুকে পরাজিত করছে; যুদ্ধের মোড় তাদের দিকেই। যদি এর বিপরীত কিছু ঘটে, তবেই আমরা নতুন করে মূল্যায়ন করব।' এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে হুথিরা ইরানের সামরিক অগ্রগতির উপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি: সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু
হুথিরা যদি এই সংঘাতের নতুন কোনো ফ্রন্ট বা রণক্ষেত্র উন্মুক্ত করে, তবে তাদের স্পষ্ট লক্ষ্যবস্তু হবে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালি। ইরান ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর, সুয়েজ খালের দিকে সামুদ্রিক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী এই সংকীর্ণ পথটি বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থলে পরিণত হয়েছে।
এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে চলে গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে, যা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হুথিদের এই ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করছে।
সূত্র: আল জাজিরা।



