ইরানি পর্যটকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ছয় মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি
ইরানি পর্যটকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা

ইরানি পর্যটকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ছয় মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি

অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানি নাগরিকদের জন্য ছয় মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তটি চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণ ও প্রভাব

বুধবার (২৫ মার্চ) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানে চলমান মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের কারণে কিছু স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারী অস্ট্রেলিয়ায় তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রস্থানে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হতে পারেন।’ এই ঝুঁকি বিবেচনা করেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞাটি শুধুমাত্র ইরানি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করছেন। পর্যটন বা কাজের ভিসা থাকা সত্ত্বেও তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যতিক্রম ও সরকারের অবস্থান

এই বিধিনিষেধের কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন:

  • ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ইরানি নাগরিক
  • অস্ট্রেলিয়ায় যাত্রারত ব্যক্তিবর্গ
  • অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী বা সন্তান
  • স্থায়ী ভিসাধারীরা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, ‘কারা স্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবে তা সরকারের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত। ছুটিতে আসা ব্যক্তিদের বিষয়টি এলোমেলো ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।’

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে, যেন অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থা সুবিন্যস্ত, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই থাকে।

সমালোচনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

সিডনিতে অবস্থিত অ্যাসাইলাম সিকার্স সেন্টার সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানিদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা একটি ‘লজ্জাজনক নতুন আইন’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে ইরানের নারী ফুটবল দলকে আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। খেলোয়াড়রা কুইন্সল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ-২০২৬ ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় নিজ দেশে প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

অ্যালবানিজ পরে সাংবাদিকদের জানান যে দলের পাঁচ সদস্য সহায়তা চেয়েছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের নিরাপদে রাখছে। মোট সাতজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যদিও পরে পাঁচ খেলোয়াড় দেশে ফিরে গেছেন।

২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৯০ হাজারের বেশি অস্ট্রেলিয়ান বাসিন্দা ইরানে জন্মগ্রহণ করেছেন। সিডনি ও মেলবোর্নের মতো বড় শহরগুলোতে একটি উল্লেখযোগ্য ইরানি অভিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করছে।

এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া-ইরান সম্পর্কের উপর এর প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে বিশ্লেষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন।